August 9, 2026, 8:39 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় এক কাঠ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা দুপুরের দিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে গিয়ে ওই কাঠ ব্যবসায়ীকে জিম্মী রাখা হয়। এ সময় নগদ ২লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতের দিকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এমনকি এক ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় খালি ননজুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেয়া হয়। ১০ ফেব্রæয়ারী (বুধবার) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সাকুরপাড় ষ্টেশনের উত্তর দিকে জারুলবুনিয়া সাকুরপাড় চলাচল সড়কের হাজিরঘোনা মোকাম থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত কাঠ ব্যবসায়ীর নাম আক্তার হোছন (৩৬)। তিনি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীর দক্ষিন পুইছড়ির মো: পেঠানের ছেলে। সুত্র জানায়, ওই দিন দুপুরের দিকে কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোছন শিলখালীর হাজিরঘোনা থেকে খরিদকৃত কাঠ আরবশাহ বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ী ভর্তি করছিলেন। এ সময় ৫/৬ জনের শ্রমিকও ছিল। পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা একটি সিএনজি নিয়ে সেখানে আসেন। মুহুর্তের মধ্যে সিএনজিতে থাকা ৪/৫ জনের অজ্ঞাত দুবৃর্ত্তরা তাকে টানা হ্যাচড়া করে গাড়ীতে তুলে ফেলে। এক পর্যায়ে সড়কের উত্তর দিকে সিএনজিটি মুহুর্তের মধ্যে সটকে পড়ে। এ দিকে ওই দিন রাত ৭ টার দিকে তাকে জিম্মী থেকে মুক্তি দেয়া হয়। প্রায় ৭ ঘন্টা পর কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোছনকে একই ইউনিয়নের পেঠানমাতবরপাড়ায় দোকানে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদু ছমদের মধ্যস্থতায় ননজুড়িসিয়াল একটি খালি ষ্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে স্বাক্ষরও আদায় করে। অপর আরেকটি সুত্রের দাবী আক্তার হোছনকে অপহরণ করা হয়নি। পূর্বের লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে পেঠানমাতবরপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দু’পক্ষকে নিয়ে মধ্যস্থতা করে ইউপি সদস্য বিষয়টি মিমাংসা করেছেন। তবে এ ব্যাপারে কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোছন জানান, তাকে পরিকল্পিতভাবে কমান্ডো স্টাইলে অপহরণ করা হয়। পাহাড়ের গহীন অরণ্যে তাকে ৭ ঘন্টা আটকিয়ে রাখে। তার পকেটে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ছিল। সেগুলো অপহরণকারীরা নিয়ে ফেলে। জাহেদ নামক একজনকে আমি চিনে ফেলেছি। এ বিষয়ে পেঠানমাতবরপাড়ার ষ্টেশনের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঠিকই তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে একটি ট্টলির ক্ষতিপূরনের টাকা পাওনা নিয়ে জাহেদ ও আক্তার হোছনের মধ্যে বিরোধ। ৮ মাস পর্যন্ত সেটি নিস্পত্তি না হওয়ায় তাকে এখানে আনা হয়েছিল। আবদুল গফুর, বাবুল, বাদশাহ, মোজাহেরসহ আরো অনেকে জানান, আমরা আক্তার হোছনের গাছ কাটতে শিলখালীতে এসেছি। চোখের সামনে সিএনজিতে তুলে তাকে নিয়ে গেছে। এরপর আমরা তাকে খোঁজ করছিলাম। রাতের দিকে তার সন্ধান পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্য আবদু ছমদ জানান, আসলে পাওনা টাকা আদায় করে দিতে সবার মতামতের ভিত্তিতে স্ট্যাম্প নেয়া হয়েছে। একটি সাদা কাগজে চুক্তিনামার শর্তগুলো লিখা হয়। ৭০ হাজার টাকা পাওনার মধ্যে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলে স্ট্যাম্পটি দাতাকে হস্তান্তর করা হবে।